৮০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় প্রথম স্থান অধিকার করে নজির গড়ল সুন্দরবন আল-হিকমা মিশনের ছাত্র-ছাত্রীরা। তাঁদের এই সাফল্যে মিশনের শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক এবং ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে খুশির আবহ তৈরি হয়েছে। কুচকাওয়াজে তাঁদের এই সাফল্য মিশনের শিক্ষাক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ও ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়মিত অনুশীলনেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কৃতি ছাত্র-ছাত্রীদের এই সাফল্যকে অভিনন্দন জানাতে এবং তাঁদের আগামী দিনের পথচলায় উৎসাহ জোগাতে মিশনে উপস্থিত হন প্রাক্তন IPS আধিকারিক ভারতী ঘোষ। অনুষ্ঠানে মিশনের পক্ষ থেকে তাঁকে স্মারক ও পুষ্পস্তবক দিয়ে বিশেষ সম্মাননা জানানো হয়। সম্মাননা গ্রহণের পাশাপাশি তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে সময় কাটান এবং তাঁদের সাফল্যের জন্য শুভেচ্ছা জানান।
এদিন ভারতী ঘোষ মিশনের সকল ছাত্র-ছাত্রীর জন্য বই, খাতা, পেন ও চকলেট নিয়ে আসেন। তাঁর এই উদ্যোগ ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে বিশেষ উৎসাহ তৈরি করে। শিক্ষা সামগ্রীর পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে তাঁর আন্তরিক কথোপকথন ও শুভেচ্ছা বিনিময়ও অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে। উপস্থিত ছাত্র-ছাত্রীদের অনেকেই তাঁর কাছ থেকে ভবিষ্যৎ নিয়ে উৎসাহ ও পরামর্শ পায়।

শুধু শুভেচ্ছা জানানোতেই থেমে থাকেননি ভারতী ঘোষ। স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করে সাফল্য অর্জনকারী প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয় তাঁর পক্ষ থেকে। তাঁদের হাতে সম্মাননা তুলে দিয়ে আগামী দিনেও পড়াশোনা, শৃঙ্খলা ও দেশসেবার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার পরিবেশ, ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ এবং তাঁদের মানসিক বিকাশের উপর গুরুত্ব দেন ভারতী ঘোষ। বর্তমানে তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও শিক্ষাঙ্গনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার পক্ষে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, স্কুল প্রাঙ্গণে কোনও রকম রাজনীতির ছায়া পড়তে দেওয়া উচিত নয়। তাঁর মতে, শিক্ষাঙ্গনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা, চরিত্র গঠন এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণ।
তিনি আরও বলেন, ছাত্র-ছাত্রীরা দেশের ভবিষ্যৎ। তাই তাঁদের সামনে একটি সুস্থ, সুন্দর ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ছাত্র-ছাত্রীদের বিকাশের জায়গা হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
এদিনের অনুষ্ঠানে মিশনের ছাত্র-ছাত্রীদের কুচকাওয়াজে প্রথম স্থান অর্জনের বিষয়টি বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পরিশ্রম, ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়মিত অনুশীলন এবং শৃঙ্খলাবোধের ফলেই এই সাফল্য এসেছে বলে মিশন কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়।
ভারতী ঘোষের উপস্থিতি, ছাত্র-ছাত্রীদের সম্মাননা প্রদান এবং তাঁদের জন্য শিক্ষা সামগ্রী ও উপহার নিয়ে আসার ঘটনায় অনুষ্ঠানে আলাদা মাত্রা যোগ হয়। সব মিলিয়ে স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজে সাফল্য উদযাপনের পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদের উৎসাহিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে ওঠে সুন্দরবন আল-হিকমা মিশনের এই অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠান শেষে ভারতী ঘোষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ এবং শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতির প্রভাব নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। তাঁর সেই বক্তব্য নিয়েও শুরু হয়েছে আলোচনা।
