‘বিশ্বাসঘাতক’! কোয়েল মল্লিকের তৃণমূলের ছেড়ে যাওয়া আসনেই বিজেপির টিকিটে ফের রাজ্যসভায় ফেরার প্রস্তুতি, তীব্র আক্রমণ কুণাল ঘোষের

- Advertisement -
Ad imageAd image

তৃণমূলের সাংসদ পদে ইস্তফা, আর তার পরেই বিজেপির টিকিটে রাজ্যসভায় ফেরার প্রস্তুতি! কোয়েল মল্লিককে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চলা জল্পনায় এ বার সিলমোহর দিল বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। রাজ্যসভা উপনির্বাচনে কোয়েলকে তাঁর ছেড়ে যাওয়া আসনেই প্রার্থী ঘোষণা করেছে পদ্মশিবির। আর এই সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। কোয়েলের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনকে কার্যত ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে কটাক্ষ করার পাশাপাশি, তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

রবিবার দিল্লির দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গে বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে রাজ্যসভা উপনির্বাচনের প্রার্থিতালিকা প্রকাশ করা হয়। সেই তালিকায় নাম রয়েছে কোয়েল মল্লিকের। রাজনৈতিক মহলের জল্পনা, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগেই বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন তিনি। ফলে তৃণমূলের সাংসদ পদ ছেড়ে বিজেপির টিকিটে ফের রাজ্যসভায় প্রবেশের পথ কার্যত প্রশস্ত হল তাঁর সামনে।

কোয়েলকে নিশানা করে কুণাল ঘোষ বলেন, “কোয়েল মল্লিক বিশিষ্ট অভিনেত্রী। তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠানোর কথা ভেবেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন আপনার তৃণমূলকে ভাল লাগছিল। এখন আর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন। তাই সঙ্গে সঙ্গে বিজেপিতে যেতে হল আপনাকে।”

শুধু কোয়েলকে আক্রমণ করেই থেমে থাকেননি কুণাল। অভিনেত্রীকে রাজ্যসভায় পাঠানোর ক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের রাজনীতিতে এনে জনপ্রতিনিধিত্বের সুযোগ করে দেওয়ার পিছনে মমতার সদিচ্ছা ছিল। কিন্তু কয়েক জন সেই সৌজন্যের মর্যাদা রাখেননি।

কুণালের কথায়, তৃণমূলের রাজনীতিতে শুধু সক্রিয় রাজনীতিকেরাই নন, চিকিৎসক, খেলোয়াড়, গায়ক এবং চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও জনপ্রতিনিধি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কয়েক জনের দলবদল সেই উদ্যোগের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা বলেই মনে করছেন তিনি। তাঁর মতে, এই ঘটনা ভবিষ্যতে অন্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের রাজনীতিতে আনার ক্ষেত্রেও প্রশ্ন তুলে দিতে পারে।

কোয়েলের আগে একই পথে তিন তৃণমূল সাংসদ

কোয়েল মল্লিকের বিজেপির টিকিটে রাজ্যসভায় ফেরার ঘটনা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিলেও, এর আগে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে আরও তিন জনের ক্ষেত্রে। সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক তৃণমূলের সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর বিজেপির প্রার্থী হিসেবে ফের রাজ্যসভায় যাওয়ার সুযোগ পান।

তৃণমূলের সাংসদ পদ ছাড়ার পর গত ৯ জুলাই বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন ওই তিন জন। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁদের রাজ্যসভা উপনির্বাচনের প্রার্থী ঘোষণা করে পদ্মশিবির। এ বার সেই তালিকায় চতুর্থ নাম হিসেবে উঠে এল কোয়েল মল্লিকের নাম।

কেন ইস্তফা দিয়েছিলেন কোয়েল?

গত ফেব্রুয়ারিতে পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে কোয়েল মল্লিকের নাম ঘোষণা করেছিল। তাঁর সঙ্গে প্রার্থী করা হয়েছিল রাজীব কুমার, বাবুল সুপ্রিয় এবং মেনকা গুরুস্বামীর মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরও। মার্চে রাজ্যসভা নির্বাচন হওয়ার পর ৬ এপ্রিল সাংসদ হিসেবে শপথ নেন কোয়েল। তবে কোনও সংসদীয় অধিবেশনে যোগ দেওয়ার আগেই, বাদল অধিবেশন শুরুর আগে ১৬ জুলাই সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি।

ইস্তফা দেওয়ার দিনই দিল্লিতে গিয়ে উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণণের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন কোয়েল। এর পরেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা আরও জোরালো হয়। কারণ, সেই সময় তৃণমূলের কয়েক জন বিদ্রোহী সাংসদেরও ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে বৈঠকের খবর সামনে এসেছিল।

এর পর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, তবে কি কোয়েলও বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন? রবিবার বিজেপির প্রার্থিতালিকায় তাঁর নাম ঘোষণার পর সেই জল্পনা আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

### ১৬ অক্টোবর রাজ্যসভা উপনির্বাচন, নজর কোয়েলের পরবর্তী পদক্ষেপে

আগামী ১৬ অক্টোবর দুর্গাপুজোর ষষ্ঠীর দিন কোয়েল মল্লিকের ছেড়ে যাওয়া আসনে রাজ্যসভা উপনির্বাচন হওয়ার কথা। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ৬ অক্টোবর। ফলে তার আগেই বিজেপিতে যোগদান এবং মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হতে পারে তাঁকে।

রাজনৈতিক সমীকরণে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে কোয়েলের রাজ্যসভায় ফেরার সম্ভাবনা জোরালো বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত ফল নির্ভর করবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার উপর।

সব মিলিয়ে, তৃণমূলের হাত ধরে রাজ্যসভায় যাত্রা শুরু করে সাংসদ পদে ইস্তফা, তার পর বিজেপির টিকিটে সেই আসনেই ফের প্রার্থী হওয়া, কোয়েল মল্লিকের এই রাজনৈতিক যাত্রাপথ ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে। একদিকে বিজেপির কৌশল নিয়ে চর্চা, অন্যদিকে কুণাল ঘোষের ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ মন্তব্য। এখন দেখার, কোয়েলের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয় এবং এই দলবদল বাংলার রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে।

শেষ দশটি খবর