অষ্টম-নবম পাশেই ডাক্তারি! রেখা পাত্রের ‘শিক্ষার গল্পে’ উঠছে প্রশ্ন—বাবা ডাক্তার, নাকি ডিগ্রিটাই ছিল বাকি?

- Advertisement -
Ad imageAd image

SSTV PUBLIC: নিজস্ব সংবাদদাতা:
রাজনীতিতে কথার দাম অনেক। আর সেই কথা যখন নিজেই হয়ে ওঠে প্রশ্নের বিষয়, তখন বিতর্ক তৈরি হতে সময় লাগে না। হিঙ্গলগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক রেখা পাত্রের একটি বক্তব্য ঘিরে এখন তেমনই কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

এক সাক্ষাৎকারে রেখা পাত্র তাঁর পরিবারের শিক্ষাগত পরিবেশের কথা বলতে গিয়ে জানান, তাঁদের পরিবারে সেভাবে পড়াশোনা জানা কেউ ছিলেন না। সেই প্রসঙ্গেই তাঁর দাবি—তাঁর বাবা অষ্টম বা নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিলেন এবং পরে বাইরে গিয়ে ডাক্তারি করতেন।

এখানেই প্রশ্নটা একটু থমকে দাঁড়ায়, অষ্টম বা নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে যদি কেউ ডাক্তারি করেন, তাহলে সেই ‘ডাক্তারি’র সংজ্ঞাটা ঠিক কী?

অবশ্যই, এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার রাখা জরুরি। রেখা পাত্রের বাবার শিক্ষাগত যোগ্যতা বা তাঁর চিকিৎসা-চর্চার ধরন সম্পর্কে স্বাধীন কোনও নথি এই প্রতিবেদনের হাতে নেই। ফলে এটিকে সত্য ঘটনা হিসেবে নয়, রেখা পাত্রের নিজের বক্তব্য হিসেবেই দেখা উচিত।

শিক্ষার হিসেবেও অবশ্য কম কৌতূহল নেই

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় জমা দেওয়া নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, রেখা পাত্র নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে ২০০৩ সালে উত্তর বউঠাকুরানি এফপি বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাশ করার কথা উল্লেখ করেছিলেন।

অর্থাৎ, একদিকে নিজের শিক্ষাজীবন পঞ্চম শ্রেণিতে থেমে যাওয়ার তথ্য, অন্যদিকে পরিবারের শিক্ষার প্রসঙ্গে বাবার অষ্টম-নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা এবং তারপর “ডাক্তারি” এই তিনটি তথ্য পাশাপাশি রাখতেই স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল তৈরি হচ্ছে।

তবে পড়াশোনা কম হওয়া নিজে কোনও অপরাধ নয়। গ্রামবাংলার বহু মানুষ আর্থিক বা সামাজিক কারণে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি। বরং সেই বাস্তবতা নিয়ে গর্বের সঙ্গে কথা বলার মধ্যেও কোনও সমস্যা নেই।

সমস্যা তৈরি হয় তখনই, যখন শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং পেশাগত পরিচয়ের মধ্যে এমন একটি ফারাকের কথা বলা হয়, যার ব্যাখ্যা স্পষ্ট নয়।

আর মজার ব্যাপার, আজ সেই পড়াশোনাই আবার রাজনৈতিক অস্ত্র

২০২৬ সালে হিঙ্গলগঞ্জের বিধায়ক হওয়ার পর রেখা পাত্র অভিযোগ করেছেন, পড়াশোনা না জানার কারণে তাঁর নিজের দলের জেলার কিছু নেতা তাঁকে অপমান করেন। তিনি বিষয়টি দলের উপরমহলের নজরেও এনেছেন বলে জানিয়েছেন।

অর্থাৎ, যে শিক্ষাগত সীমাবদ্ধতা একসময় তাঁর সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হওয়ার পরিচয়ের অংশ ছিল, সেটিই এখন দলের অন্দরে তাঁকে খোঁচা দেওয়ার অস্ত্র হয়ে উঠেছে—এমনটাই তাঁর অভিযোগ।

সেখানেই প্রশ্নটা আরও বড় হয়—

রাজনীতিতে কি ডিগ্রি দিয়ে যোগ্যতা মাপা হবে, নাকি কাজ দিয়ে?

যদি কাজ দিয়েই যোগ্যতা মাপা হয়, তাহলে রেখা পাত্রের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে কটাক্ষ করারও বিশেষ মানে নেই। কিন্তু একই সঙ্গে অষ্টম-নবম শ্রেণি পাশ করে ‘ডাক্তারি’ করার মতো বক্তব্য সামনে এলে তার ব্যাখ্যা চাওয়াও অস্বাভাবিক নয়।

শেষ কথা

রেখা পাত্রের বক্তব্য নিয়ে হাসাহাসি করাই আসল খবর নয়। আসল প্রশ্ন হল—তিনি ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন? তাঁর বাবা কী ধরনের চিকিৎসা করতেন? কোথায় করতেন? কোনও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ বা স্বীকৃতি ছিল কি?

এই প্রশ্নগুলির উত্তর পাওয়া গেলে বিতর্কের অনেকটাই পরিষ্কার হবে।

তার আগে পর্যন্ত বলা যায়—

“পড়াশোনা কম” এটা নিয়ে খোঁচা নয়;
কিন্তু “পড়াশোনা কম, অথচ ডাক্তারি” এই দাবির ব্যাখ্যা চাইতেই পারে জনতা।

কারণ রাজনীতিতে প্রশ্ন করলে উত্তর দিতে হয়। আর উত্তরটা যদি নিজের মুখ থেকেই আসে, তাহলে সেই উত্তরের পরের প্রশ্নটাও আসবে, এটাই স্বাভাবিক।

শেষ দশটি খবর