১৫ লক্ষের বিতর্কে RJ Priyanka-কে ঘিরে নেটিজেনদের তীব্র ক্ষোভ! কুচুপুচু মামনি, মানুষকে চার অক্ষর ভাবো নাকি?

- Advertisement -
Ad imageAd image

ধর্ম নিয়ে উসকানি দিইনি, রাজ্যও বেচিনি’—১৫ লক্ষ টাকার বিতর্কে RJ Priyanka-র সাফাই, পাল্টা প্রশ্নে সরব নেটদুনিয়া

সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের টাকা দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে শিলিগুড়ির RJ Priyanka-র নাম। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিজেপির নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া রিপোর্টে তাঁর নাম ও অর্থপ্রাপ্তির উল্লেখ রয়েছে। এই বিতর্কের মাঝেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে ফেসবুকে মুখ খুলেছেন প্রিয়াঙ্কা।

প্রিয়াঙ্কার বক্তব্য, ১৫ লক্ষ টাকা পাওয়ার যে অঙ্কটি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা চলছে, তা সঠিক নয়। একইসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন—তাঁর কোন ভিডিওতে বিজেপিকে ভোট দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে, বিজেপির প্রশংসা করা হয়েছে কিংবা অন্য কোনও রাজনৈতিক দলকে আক্রমণ করা হয়েছে? তাঁর দাবি, এমন কোনও ভিডিও খুঁজে পাওয়া যাবে না।

প্রিয়াঙ্কার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, তাঁকে ‘বিকশিত ভারত’ কর্মসূচির জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। বন্দে ভারত ট্রেনের সুযোগ-সুবিধা, বিভিন্ন ফিচার এবং বাজেট সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তিনি একটি ভিডিও করেছিলেন। তাঁর দাবি, সেটি ছিল সাধারণ প্রচারমূলক কাজ; সেখানে কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে ভোটপ্রচার বা ধর্ম নিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য ছিল না।

অমিত শাহর সঙ্গে ভাইরাল হওয়া ছবি নিয়েও মুখ খুলেছেন প্রিয়াঙ্কা। তাঁর দাবি, ছবিটি ভোটের পর জুন মাসের এবং ‘বিকশিত ভারত’ কর্মসূচির সূত্রেই তাঁর সেখানে উপস্থিতি ছিল। একইসঙ্গে তিনি বলেন, তাঁকে নিয়ে এমনভাবে আলোচনা হচ্ছে যেন তিনি কোনও গুরুতর অপরাধ করেছেন—যা তাঁর মতে বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না।

তবে প্রিয়াঙ্কার বক্তব্যের পরেও বিতর্ক থামেনি। বরং নেটিজেনদের একাংশের প্রশ্ন—যদি ১৫ লক্ষ টাকার অঙ্কটি ভুল হয়, তাহলে প্রকৃত অর্থের পরিমাণ কত? আর সেই অর্থ কোন পক্ষ বা সংস্থার মাধ্যমে দেওয়া হয়েছিল? প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রিয়াঙ্কা অর্থ পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেননি, কিন্তু নির্দিষ্ট অঙ্ক প্রকাশ করেননি।

এই জায়গাতেই Revive Politics-এর একটি পোস্ট নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। পোস্টে RJ Priyanka-র বক্তব্যকে কটাক্ষ করে প্রশ্ন তোলা হয়েছে—“বন্দে ভারত কেন্দ্রীয় সরকারের, টাকা দিলে সরকার টাকা দেবে, BJP কেন দেবে?” এরপর পোস্টে আরও তীব্র ভাষায় লেখা হয়েছে, “লজিক কে শিখিয়েছে?” এবং “মানুষকে চার অক্ষর ভাবো নাকি?”—সহ একাধিক কটাক্ষ।

এর আগে একই পেজের পোস্টে আরও প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, বন্দে ভারত ট্রেনের প্রচারের জন্য কীভাবে টাকা পাওয়া যায় এবং সেই ‘প্রসেস’টাই বা কী। পোস্টে ১৫ লক্ষ টাকার অঙ্ক নিয়েও ব্যঙ্গ করে বলা হয়, অঙ্কটি ১৫ লক্ষ না হয়ে ১৫ হাজার হলেও নাকি প্রচার হয়ে যাবে—এমন কটাক্ষও করা হয়।

ফলে এখন বিতর্কের মূল প্রশ্নগুলো দাঁড়াচ্ছে—১৫ লক্ষ টাকার অঙ্কটি কোথা থেকে এল, প্রকৃত অর্থের পরিমাণ কত, এবং বন্দে ভারত সংক্রান্ত প্রচারের অর্থপ্রদানকারী আসলে কে ছিল? অন্যদিকে প্রিয়াঙ্কার অবস্থান পরিষ্কার—তিনি কোনও দলীয় ভোটপ্রচার বা উসকানিমূলক রাজনৈতিক ভিডিও করেননি এবং ১৫ লক্ষ টাকার দাবিটিও সঠিক নয়।

অর্থাৎ, একদিকে RJ Priyanka-র সাফাই, অন্যদিকে নেটিজেনদের প্রশ্ন ও Revive Politics-এর কটাক্ষ—১৫ লক্ষ টাকার বিতর্ক আপাতত আরও জোরালো হয়েছে। তবে অর্থের প্রকৃত অঙ্ক ও অর্থপ্রদানের উৎস নিয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য সামনে না আসা পর্যন্ত সোশ্যাল মিডিয়ার অভিযোগ ও কটাক্ষকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখা যাচ্ছে না।

শেষ দশটি খবর